শিশুর সঙ্গে কেমন হবে মা-বাবার আচরণ | শিশুদের সাথে পিতা-মাতার কেমন আচরণ হওয়া উচিত ২০২১

হ্যালো বন্ধুরা Bangla Topics ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজকের এই পোস্ট থেকে শিশুদের সাথে পিতা-মাতার কেমন আচরণ হওয়া উচিত তা জেনে নিন।


শিশুর সঙ্গে কেমন হবে মা-বাবার আচরণ | শিশুদের সাথে পিতা-মাতার কেমন আচরণ হওয়া উচিত


শিশুর সঙ্গে কেমন হবে মা বাবার আচরণ | শিশুদের সাথে পিতা-মাতার কেমন আচরণ করা উচিত


পৃথিবীর প্রতিটি শিশুকে পরিপূর্ণভাবে এবং সঠিক আদর্শ দিয়ে গড়ে তোলা প্রতিটি পিতা-মাতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য। তার জীবনের প্রথম পথ চলা থেকে শুরু করে কথা বলা, শিক্ষা , আচরণ , নীতি-আদর্শ , সময়ানুবর্তিতা ইত্যাদি পিতা-মাতা থেকে শিক্ষা পায়। প্রত্যেক পিতা-মাতার মনে রাখতে হবে যে, তাদের আচরণের ওপর নির্ভর করে সন্তানের ভবিষ্যৎ। অনেক সময় দায়িত্বশীল পিতা-মাতারা কিছু সিদ্ধান্ত ভুল করে থাকেন। তাদের একটি ভুলের কারণে সন্তানের ভবিষ্যত নষ্ট হতে পারে। আপনার
আদরের সন্তানের প্রতি কেমন আচরণ হওয়া উচিত তা নিচে আলোচনা করা হলো।

 

১। শিশুদের সাথে চিৎকার না করে কথা বলা। তারা যদি কোন ভুল কাজ করে থাকে তাহলে বুঝিয়ে বলুন। মানুষ মাত্রই ভুল হয়। শিশু যদি চিৎকার করে কান্না করতে থাকে, তখন ধমক দেয়া থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখতে হবে যে, আপনার এমন আচরণের জন্য তার মানসিক বিকাশের বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই তাদের সাথে হেসে কথা বলুন।

 

২। শিশুদের কখনো ভয় দেখাবেন না। এই রকম আচরন তাদের মনে ভয় সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি যে, অনেক সময় আমরা কাছের মানুষদের নাম নিয়ে ভয় দেখিয়ে থাকি। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে সেই মানুষটির সাথে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয় ভয় পাবার কারণে।

 

৩। শিশুদের কখনো এক বাচ্চার সাথে আরেক বাচ্চার তুলনা করবেন না। এর ফলে শিশুরা নিজেকে ছোট মনে করে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। যা শিশুর ভবিষ্যতের জন্য খুবই ক্ষতিকর। আরেকদিকে আপনি যার সাথে তুলনা দিয়েছেন তার প্রতি ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ভবিষ্যতে খারাপ কিছু ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

 

৪। শিশুদের কথায় কথায় শাস্তি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। তারা কোন কাজে ভুল করলে তাকে বুঝিয়ে বলুন। আমরা আমাদের চারপাশে এমন অনেক উদাহর দেখতে পাই যে, মিষ্টি কথা বলেও অনেক কাজ এবং ভালোবাসা আদায় করা সম্ভব। শিশুদের কখনো মারধর করবেন না। শিশুদের সাথে সবসময় মানবিক আচরণ করবেন।

 

৫। শিশুকে খেলাধুলা করতে উৎসাহ দিন। খেলাধুলা করা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। খেলাধুলা করলে শিশুদের অলসতা ভাব চলে যাবে। তাছাড়া সুস্বাস্থ্যের জন্য খেলাধুলা খুবই উপকারী। খেলাধুলা করা চমৎকার একটি ব্যায়াম।

 

৬। শিশুদের ভালো কাজের জন্য পুরস্কার প্রদান করুন। যাতে তারা সব সময় ভালো কাজ করতে উৎসাহী হয়। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলে, ভালো পোশাক কিনে দিন অথবা কোন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যান। যাতে করে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে পারে।

 

৭। শিশুদের পরিষ্কার-পরিছন্নতা শেখান। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। প্রতিদিন সকালে ও রাতে দুইবার ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তার কখন গোসল করতে হবে, কখন হাত পায়ের নখ কাটতে হবে সেখানে খেয়াল রাখুন।

 

অবশেষে একটি কথা বলতে চাই যে, প্রতিটি সন্তান তার বাবা-মায়ের কাছে অমূল্য সম্পদ। তাই সন্তানের উজ্জল ভবিষ্যত নিশ্চিত করা প্রতিটি পিতা মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য।

 

 আশা করি বন্ধুরা আজকের এই পোস্ট থেকে শিশুদের সাথে পিতা-মাতার কেমন আচরণ করা উচিত তা জানতে পেরেছেন। এই পোস্টটি ভালো লাগলে আপনার মতামত কমেন্ট সেকশনে জানিয়ে দিবেন এবং আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

 

 ধন্যবাদ

 

1 Comments

  1. পোস্ট টি পরে ভালো লাগলো। Good Information...

    ReplyDelete
Post a Comment
Previous Post Next Post